Press "Enter" to skip to content

হিন্দু নিগ্রহের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠলো বাঙালিরা

অভিজিৎ রায়

জামশেদপুর : হিন্দু নিগ্রহের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠলো বাঙালিরা ।দেরিতে হলেও প্রত্যাশা মতই বাংলাদেশে দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে সেখানকার হিন্দু নিগ্রহের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠলো ইস্পাতনগরী জামশেদপুরের বাঙালিরা।

১লা নভেম্বর সন্ধ্যায় জামশেদপুরের বিভিন্ন বাংলা-ভাষাভাষী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে সম্পূর্ণ একটি ‘অরাজনৈতিক’ মিছিল করার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সুস্পষ্ট অনুমতি না মেলায় তা বাতিল করা হয়।

তবে প্রতিবাদ চেপে রাখেনি জনতা। প্রথমে বেঙ্গল ক্লাব ও পরে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাকচি গোলচক্করের কাছে অবস্থান করে বাংলাদেশে হিন্দু নিগ্রহের ঘটনার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করা হয়।

সকলের বুকে ছিল কালো ব্যাজ, হাতে প্রতিবাদী ফেস্টুন ও ব্যানার এবং মুখে শ্লোগান – ‘‘বাংলাদেশ হায় হায়, হাসিনা তুম হোসমে আয়ো, বাঙালি একতা জিন্দাবাদ, হিন্দু একতা জিন্দাবাদ’’ ইত্যাদি।

মোমবাতিও জ্বালানো হয় সাকচি গোল চকে জানমাল খোয়ানো হতভাগ্য বাংলাদেশী হিন্দুদের স্মরণে। বাঙালিদের পাশাপাশি বেশকিছু অবাঙালিও এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন এদিন।

বেঙ্গল ক্লাব, মিলনী, অমল সংঘ, টেলকো সবুজ সংঘ, ঝাড়খণ্ড বঙ্গভাষী সমন্বয় সমিতি ছাড়াও আরও বহু বাঙালি সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এই উপলক্ষে।

প্রতিবাদ সভায় দাবি ওঠে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্মের তকমা সরিয়ে অবিলম্বে আগের মতই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ঘোষণা করা হোক।

হিন্দু দের জানমালের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক

ভারত সরকার এবং ঝাড়খণ্ড সরকারকে এ ব্যাপারে উপযুক্ত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশের হতভাগ্য হিন্দুদের পাশে পোক্ত-ভাবে দাঁড়াবার অনুরোধও করা হয় এদিনের সভা থেকে।

ঝাড়খণ্ড বঙ্গবাসী সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ সিং চৌধুরী জানালেন আমরা গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ নিয়ে লক্ষ্য করলাম যে, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় তাঁদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা এবার নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারলেন না, বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলা ও নানা অবাঞ্ছিত ঘটনার মধ্যে দিয়ে সে উৎসবে নানা উপদ্রব ঘটেছে।

বাংলাদেশের সরকার ও পুলিশের তৎপরতায় বড় রকমের বিপর্যয় হয়তো এড়ানো গেছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উদার অসাম্প্রদায়িকতা আর মুক্তিযুদ্ধের আলোকিত চেতনা—যে চেতনাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর বলে বিশ্বাস করি

সেই চেতনার বিরোধী এই সব অশুভ উদ্যোগ এই উপমহাদেশের সচেতন ও অখণ্ড মানবতায় বিশ্বাসী মানুষদের বিশেষভাবে বিচলিত করেছে

নীতিগত ভাবে সংখ্যালঘুর ধর্ম, সম্পত্তি, অধিকার, জীবন ইত্যাদি রক্ষার দায় সংখ্যাগুরুর হাতে—এ হল এক মানবিক দায়, এবং এই আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীদেরও এই বিশ্বাস।

শুধু সরকারের নয়, আপামর মানুষেরও দায়। ওদিকে বাংলাদেশে যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যা করেছিল,

যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল, তাদের রাজনৈতিক শাসন বাংলাদেশের জাগ্রত জনমতের বিদ্রোহের ফলে অপসারিত হয়েছে, কিন্তু তাদের সমর্থকদের বিপজ্জনক গোষ্ঠীগুলি নিশ্চিহ্ন হয়নি।

আমরা জানি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সে সম্বন্ধে সচেতন। সেই গোষ্ঠীগুলিই, যাদের সঙ্গে ধর্মীয় মৌলবাদীদের গভীর সখ্য, কুমিল্লা ও অন্যন্য স্থানে এই উৎপাতগুলির মূলে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

Spread the love
More from দেশMore posts in দেশ »
More from নতূন খবরMore posts in নতূন খবর »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *