Press "Enter" to skip to content

কালিয়াচকের এক পরিবারে চার সদস্য খুনের ঘটনার অনুসন্ধানে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

জঙ্গী যোগের ব্যাপার এবার খতিয়ে দেখছে পুলিস

ম্যাট্রিক পাস করার পরে দু বছর গায়েব ছিলো

দোতলা বাড়িতে ছিলো না কোন জানালা

জাতীয় খবর

মালদাঃ কালিয়াচকের একই পরিবারের চার সদস্যকে খুনের ঘটনায় নতুন মোড় নিতে

চলেছে। গ্রেপ্তার হওয়া মূল অভিযুক্ত আসিফ মহম্মদকে জেরা করে তার দুই বন্ধুর কাছ থেকে

বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং ম্যাগজিন উদ্ধার করলো পুলিশ । এই ঘটনার সঙ্গে জঙ্গী

যোগ জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছে কালিয়াচকের তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। যদিও

এব্যাপারে এখনই জঙ্গী যোগের বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার করে কিছু জানায় নি পুলিশ । তবে ধৃত

আসিফ মহম্মদ তার দুই বন্ধুর কাছে এত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ কেন মজুত

রেখেছিল তা নিয়ে পুলিশ এখন জোর তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতের বাড়িতেও ৬টি সিসি ক্যামেরা

কেন বসানো ছিলো। সেটি নিয়েও অন্ততদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। এদিকে বিপুল পরিমাণে

অস্ত্র উদ্ধারের পর কালিয়াচকে পরিবারের চার সদস্যকে খুনের ঘটনায় ধৃত আসিফ মহম্মদের

কার্যকলাপ রহস্যজনকভাবে মোড় নিয়েছে। জঙ্গী যোগ রয়েছে কিনা সেই তথ্য জানতেই ধৃত

আসিফ মহম্মদকে জেরা করতে পারে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) বলে একটি

সূত্র থেকে জানা গিয়েছে। কালিয়াচকের পরিবারের চার সদস্যকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত

আসিফ মহম্মদকে জেরা করে শনিবার গভীর রাতে কালিয়াচকের থানার পুরাতন ১৬ মাইল

এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবির আলী এবং মহম্মদ মাফুজ নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে

পুলিশ। দুজনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ৫টি সেভেন এম এম পিস্তল, ৮o রাউন্ড কার্তুজ

ও ১০টি ম্যাগাজিন। রবিবার পুলিশ ধৃত আসিফ মহম্মদকে চারজনকে খুনের ঘটনায় মামলা

রুজু করে আদালতের মাধ্যমে ১২ দিনের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ আরো একটি পৃথক মামলা রুজু করে ধৃত ওই দুই

যুবককে আদালতের মাধ্যমে পাঁচদিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার

আবেদন জানিয়েছে।

কালিয়াচকের নিজের পরিবারের চার জনকে খুন

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবারের আসিফ মহম্মদকে তার বাবা জাওয়াদ আলি (৫৩), মা

ইরা বিবি (৩৬), বোন আরিফা খাতুন (১৫), ঠাকুমা আলেকনুর বেওয়াকে (৭২) খুনের ঘটনায়

গ্রেপ্তার করা হয় । এরপর বাড়ির গোডাউন ঘর থেকেই মাটি খুঁড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায়

চারটি দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। যাদেরকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে মাদকদ্রব্য

মিশিয়ে খাওয়ানোর পর কফিন বন্দি অবস্থায় চৌবাচ্চার জলে ডুবিয়ে খুন করা হয়েছিল।

তারপরে সেই মৃতদেহগুলি একটি একটি করে গোডাউন ঘরের মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়। এই

বিষয়টি ধৃত আসিফ মহম্মদ প্রাথমিক জেরায় পুলিশকে জানিয়েছে। শনিবার রাতে ধৃত আসিফ

মহম্মদকে পুলিশ আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে এই অস্ত্রের সন্ধান পায়। যেগুলি আসিফ মহম্মদ তার

দুই বন্ধুকে ব্যাগে বন্দি অবস্থায় রাখতে দিয়েছিল। এই বিষয়টি জানতে পেরে রাতেই পুলিশ

পুরাতন ১৬ মাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই যুবকের বাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্র কার্তুজগুলি

উদ্ধার করে।

নিজের বাড়ির লোকেদের নাকি মমি বানাতে চেয়েছিলো

নিজের ভাইয়ের মুখ খোলার পরে যখন আসিফ কে ধরা হয় এবং মৃতদেহ গুলি উদ্ধার হয়

তখন সে পুলিসকে জানিয়েছিলো যে প্রাচীন মমি তৈরী করার ঘটনা পড়ে সে নিজেও মমি তৈরি

করতে চেয়েছিলো। তাই কফিনে অজ্ঞান মানূষগুলিকে পুরে ফেলার আগে সাদা কাপড়ে মুড়ে

তাতে অনেক রকম ক্যেমিকাল ঢেলে দিয়েছিলো। সেই সময় তার বাড়ির সবাই অজ্ঞান ছিলো।

পরে সে জলের নল খুলে মাটির নীচে রাখা সবগুলি কফিনে জল ভরে দিয়েছিলো। এই কথা

জানার পর আন্দাজ করা হয়েছিলো যে সে হয়তো মানসিক রোগে ভুগছে। এখন আগ্নেয়াস্ত্র

পাবার পরে কালিয়াচকের সমস্ত ঘটনাটি অন্য দিকে ঘুরে গিয়েছে।

More from অপরাধMore posts in অপরাধ »

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *