Press "Enter" to skip to content

সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় আটক ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে বৈঠকের আয়োজন

  • নিজস্ব প্রতিনিধি

ঢাকা : সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় আটক ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে বৈঠকের আয়োজন।

জনাকীর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে ছেলের মুক্তি চাইলেন শাল্লার নিভা রানী

দাশ।সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ছেলের সঠিক সন্ধান পাচ্ছেন না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ

মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ঘটে যায় সাম্প্রদায়িক ঘটনা।

ভিডিও তে জেনে নি কি বললেন সেখানের লোকেরা

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সে ঘটনায় আটক করা হয় ঝুমন দাশ কে। সেদিনের সাম্প্রদায়িক হামলার

ঘটনা বলতে গিয়ে অজোরে কেঁছেন নীবা রানী দাশ। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, রাতে

আটটার দিকে কাশিপুর গ্রাম থেকে মিছিল এসে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।পরদিন

বুধবার সকাল সাতটার দিকে শাল্লা থানায় ঝুমনকে দেখতে যান তিনি। কিন্তু দেখা পাইনি

তখন মসজিদে মাইকিং হচ্ছিল। আমার মেয়ে বাড়ি থেকে ফোন করে জানায়, বাড়িতে ভাঙচুর

ও লুটপাট চলছে। তিনি আরও বলেন, কাশিপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে পিঁপড়ার মতো

মিছিল আসে।ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক কে নিয়ে নোয়াগাঁও

গ্রামের এক যুবক আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন, এমন অভিযোগ তুলে সুনামগঞ্জের শাল্লার

নোয়াগাঁওয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় গ্রামের বাড়িঘর ও

মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। অন্তত ৯০টি বাড়িতে হামলা করা হয়।লাঠিসোঠা নিয়ে বাড়িঘরে

আতক্রামণ চালায়। পুত্রবধূর হাত ভেঙে দেওয়া হয়। বাড়িতে থাকা স্বর্ণ, টাকা পয়সা সব নিয়ে

যায়। দুপুরে দিকে গ্রামে ফিরে দেখতে পান, সারা গ্রামের মানুষের একই অবস্থা। কারও

বাড়িঘর, সম্পত্তি সব ভাঙচুর করা হয়েছে। লুটপাট চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, সাত দিন

ধরে তিনি ছেলের খোঁজ পাচ্ছেন না, দেখা পাচ্ছেন না। ছেলে পুলিশি হেফাজতে আছে। কিন্তু

কোথায় আছে, তা জানেন না তিনি।

সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার নিভা রানী দাশ ছেলের মুক্তি চাইলেন

সুনামগঞ্জের শাল্লার সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় আটক ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ

জাতীয় হিন্দু মহাজোট এ সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে।সাংবাদিক বৈঠকে লিখিত বক্তব্য

পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন,

সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে ঝুমন কে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি কী পোস্ট দিয়ে ছিলেন, তা দেশবাসী দেখেছে। গ্রেপ্তারের সাত দিন পেরোলেও তাঁকে মুক্তি

দেওয়া হয়নি। ঝুমনের পোস্টে ইসলাম কে কটাক্ষ করার কোনো কথা ছিল না। সেখানে

রাষ্ট্রবিরোধী কিছু ছিল না।পলাশ কান্তি দে আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে যারা লুটপাট-

ভাঙচুর, মন্দির ভাঙচুর করেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যারা সংখ্যালঘুদের জন্য

হুমকি, তাদের পুলিশ প্রশাসন কিছু করল না, হেফাজতে নিল না। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে খুশি

করতে নিরপরাধ ঝুমনকে ধরে নিয়ে গেল।জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা বলছেন,

সংখ্যালঘু নির্যাতন এ দেশে নিয়মিত দাঁড়িয়েছে। কিছু হলেই সংখ্যালঘুদের স্থাপনায় আঘাত

করা অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য সংখ্যালঘুদের মনে ভয়ভীতি দেখিয়ে

দেশত্যাগে বাধ্য করা।জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, দেশে বহুদিন

ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, বাড়িঘর ভাঙচুরের কার্যকলাপ চলে আসছে। দুঃখজনক

হলেও এসব ঘটনার কোনো ধরনের বিচার হয়নি।কেউ কোনো বিচার পায়নি। মামলা হলেও

পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের ফয়সালা হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই এ ধরনের

উসকানিমূলক কার্যকলাপে ইন্ধন জোগায়। জাতীয় হিন্দু মহাজোটের প্রধান সমন্বয়কারী

রাকেশ সরকার, সহসভাপতি প্রভাস মণ্ডল, বাদল দত্ত প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

More from অপরাধMore posts in অপরাধ »
More from দেশMore posts in দেশ »
More from ভিডিওMore posts in ভিডিও »

3 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *