Press "Enter" to skip to content

জলপথে প্রথম খাদ্যচালান ভারতে পাঠাল প্রাণ

  • আমিনুল হক

ঢাকা : জলপথে প্রথমবারের মতো ভারতে খাদ্যপণ্য রপ্তানি শুরু করল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-

ভারতের মধ্যে নৌপ্রোট্রোলকলের আওতায় কার্যক্রম শুরু পর এই প্রথম কলকাতায় খাদ্যপণ্য

পরিবাহিত হচ্ছে। এটি মুজিববর্ষের এই মাইলফলক হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের শিল্পগোষ্ঠী যাদের

ভারতেও ফ্যাক্টরী রয়েছে, সেই প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ জলপথে খাদ্যপণ্য রপ্তানির সূচলা করল।

বর্তমানে বিশ্বের ১৪৫টি দেশে প্রায় ৫০০ ধরনের পণ্য রপ্তানি করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

১৯৯৭ সাল থেকে ভারতে ভাদ্যপণ্য রপ্তানি করে আসছে প্রাণ।আয়োজকরা জানিয়েছেন,

সড়কপথের চেয়ে জলপথে পণ্যরপ্তানিতে ৩০ শতাংশ খরচ কম। এসব বিষয় বিবেচনা করে

স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীর আগের দিন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ তাদের উৎপাদিত একটি চালান

নৌপথে রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৯৭ সাল থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে প্রাণ।

বর্তমানে দেশটির ২৮টি রাজ্যে প্রাণের দেড় শতাধিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এরমধ্যে ফ্রুট ড্রিংকস,

চিপস, স্ন্যাকস, বিস্কুট, ক্যান্ডি, সস, কেচাপ, নুডলস, জেলি ও মশলা। ভোমরা, বুড়িমারী,

সুতারকান্দি, আখাউড়া ও ডাউকি দিয়ে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ত্রিপুরা,

গুজরাট, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও কেরালায় যাচ্ছে প্রাণের পণ্য।এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার ঢাকার

অদূরে নরসিংদী জেলার পলাশ উপ জেলায় অবস্থিত প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এক অনুষ্ঠানে

রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

ফিতা কেটে এবং সুইচ টিপে শুভযাত্রার উদ্বোধন করেন। এরপরই প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক জেটি

থেকে রঙবেঙের বেলুনে সাজানো এবং ৪০ হাজার কার্টন লিচি ড্রিংক বোঝাই জাহাজটি

শীতলক্ষ্যা নদীর বুক চিরে নারায়ণগঞ্জ অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। এসময় উপস্থিত বিপুল

সংখ্যক মানুষ করতালির মধ্য দিয়ে শুভযাত্রাকে অভিনন্দন জানান।নারায়ণগঞ্জ ও খুলনা হয়ে

ভারতের টিটি বন্দরে পৌঁছাতে জাহাজটি কে অতিক্রম করতে হবে ৭১০ কিলোমিটার জলপথ।

আর তাতে সময় লাগবে ৮দিন। উদ্যোগক্তারা জানালেন, সড়ক পথে এ পণ্য পরিবহণে কমপক্ষে

৪০টির ট্রাকের প্রয়োজন হতো।

জলপথে সড়কপথের চেয়ে পণ্যরপ্তানিতে ৩০ শতাংশ খরচ কম

এসময় নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জলপথে ভারতে খাদ্যপণ্য রপ্তানির

যে শুভ সূচনা হয়েছে, তাতে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, বরং সারা বিশ্বের সব বাঙালিদের

জন্য এটি একটি গর্বের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী জলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য আমাদের নির্দেশনা

দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। জলপথে বাড়ানো, নদীর

নাব্যতা ফেরাতে আমাদের মন্ত্রক অব্যাহতভাবে কাজ করে চলেছে। নৌ-প্রতিমন্ত্রী আশা করেন,

দেশপ্রেম নিয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মতো আরও শতো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং তাদের

মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান

চৌধুরী বলেন, আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সব সময় চান

আমদানি-রপ্তানিতে আমরা জলপথ ব্যবহার করে থাকে। বাঙালি হিসেবে আমরা গর্বিত যে

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবেন। ভারতের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রতিটি জেলায় প্রাণের পণ্য

পৌঁছে দিচ্ছি। প্রাণের উৎপাদিত মান সম্পন্ন পণ্য আমরা ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জলপথে পৌঁছে

দিতে চাই। আমরা সব সময় পৃথিবীর নানা প্রাণে পৌঁছাতে চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে ১৪৫টি

দেশে আমাদের পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।সভাপতির বক্তব্যে বিআইডব্লিউটি-এর চেয়ারম্যান

কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ জলপথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য

প্রটোকলের (পিআইডব্লিউটিএন্ডটি) আওতায় অভ্যন্তরীণ নৌ বাণিজ্য প্রধানত ফ্লাইঅ্যাশ নির্ভর।

শতকরা ৯৬ শতাংশ পণ্যই ফ্লাইঅ্যাশ, যা সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ

বাণিজ্য কার্যক্রম মূলত একমুখী যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌ-বাণিজ্যে ভারসাম্যহীন

অবস্থান বিরাজমান রয়েছে।পিআইডব্লিউটিএন্ডটি আওতায় জলপথে খাদ্যপণ্যের মতো

বহুমাত্রিক পণ্য পরিবহন চালু হলে তা নিশ্চিতভাবে উভয় দেশের পারস্পারিক সম্পর্ক

সুদৃঢ়করণসহ অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।অনুষ্ঠানে আরও

উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খান, বাণিজ্য সচিব

ড. জাফর উদ্দিন, নৌ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা

ফারহানা কাউনাইন প্রমূখ।

More from দুনিয়াMore posts in দুনিয়া »
More from নতূন খবরMore posts in নতূন খবর »

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *